নভেম্বরে পণ্য রফতানি ৩৮৯.১৫ কোটি ডলারের, কমেছে ৫.৫৪ শতাংশ

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের তুলনায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অর্থমূল্য বিবেচনায় পণ্য রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রফতানি হয়েছিল ৪১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য। এ হিসেবে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের তুলনায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অর্থমূল্য বিবেচনায় পণ্য রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইপিবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের রফতানি ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। ধারাবাহিক এই মাসিক প্রবৃদ্ধি রফতানি খাতে স্থিতিশীল গতি ও পুনরুদ্ধারের বার্তা দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মোট রফতানি হয়েছে ২ হাজার ২ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি ছিল ১ হাজার ৯৯০ কোটি ৬০ লাখ ১০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ। যদিও ২০২৫ সালের নভেম্বরের রফতানি ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম, তবুও মাসওয়ারি ধারাবাহিক উন্নতি খাতটির সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতা তুলে ধরছে।

ইপিবি জানিয়েছে, রফতানির প্রধান ভিত্তি পোশাক খাত নভেম্বরেও নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। এ মাসে তৈরি পোশাক খাতের (নিট ও ওভেন মিলিয়ে) রফতানি হয়েছে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটপণ্য, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ, জাহাজ, চিংড়ি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি ঝুড়িকে আরও শক্তিশালী করেছে। মূল গন্তব্য বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২০ ও ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। উদীয়মান ও কৌশলগত বাজারগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। চীনে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, পোল্যান্ডে ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সৌদি আরবে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং স্পেনে ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের বিস্তৃত উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইপিবির দাবি, বছরওয়ারি ওঠানামা থাকলেও ধারাবাহিক মাসওয়ারি প্রবৃদ্ধি এবং প্রধান খাতগুলোর স্থিতিশীল পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে যে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রফতানি শিল্প এখনো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে এবং সামনে ইতিবাচক গতি বজায় রাখার সম্ভাবনা প্রবল।

আরও